
১৬ডিসেম্বর এলেই চারপাশে পতাকা ওঠে, ব্যানার ঝোলে, বক্তৃতা হয়। আমরা বলি—বিজয়। কিন্তু বছরের বাকি দিনগুলোতে সেই বিজয় কোথায় থাকে, সে প্রশ্ন খুব কমই করি।
বিজয় মানে কি কেবল একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতা? নাকি মানুষের মুক্তি? যদি মানুষের জীবন এখনও অনিশ্চিত হয়, যদি নদীভাঙনে ঘর হারানো মানুষ রাষ্ট্রের খাতায় কেবল “ক্ষতিগ্রস্ত” শব্দে আটকে থাকে, যদি শ্রমিক তার মজুরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করে—তাহলে বিজয়ের অর্থটা কোথায় দাঁড়ায়?
১৯৭১–এর মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শুধু একটি পতাকা দেয়নি, দিয়েছে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার। সেই অধিকার আজও কি সমানভাবে সবার কাছে পৌঁছেছে? আমরা কি আদিবাসীর ভূমি-অধিকার রক্ষা করতে পেরেছি? আমরা কি নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছি? আমরা কি নদীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি?
বিজয় দিবস আমাদের উৎসবের দিন—ঠিকই। কিন্তু একই সঙ্গে এটি আত্মসমালোচনার দিনও হওয়া উচিত। কারণ বিজয় কোনো স্থির ঘটনা নয়; এটি একটি চলমান দায়িত্ব। প্রতিদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, প্রতিদিন সত্য বলার সাহস রাখা, প্রতিদিন মানুষের পাশে থাকা—এই চর্চাই বিজয়কে টিকিয়ে রাখে।
মুক্তিযুদ্ধের শহীদরা কোনো নিখুঁত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেননি, দেখেছিলেন একটি ন্যায্য সমাজের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায় আজ আমাদের কাঁধে। ১৬ ডিসেম্বর সেই দায় নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।
বিজয় যদি মানুষের মুখে হাসি না আনে, যদি ক্ষুধার্ত শিশুর হাতে বই না তুলে দেয়, যদি প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠ রাষ্ট্রের কানে না পৌঁছায়—তবে সেই বিজয় অপূর্ণই থেকে যায়।
এই ১৬ডিসেম্বর আমাদের প্রশ্ন করতে শেখাক—
আমরা কতটা মুক্ত?
আর কতটা মুক্ত হওয়া বাকি?
— কলামিস্ট
মুক্তিশিখা






