একটি রাষ্ট্র কেবল রাজধানী দিয়ে গঠিত হয় না। একটি দেশ কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র, রাজনীতি আর কর্পোরেট আলোয় আলোকিত শহরগুলোর গল্প নয়। ঢাকার বাইরেও একটি বাংলাদেশ আছে—যেখানে নদী ভাঙনের সাথে ভাঙে মানুষও; যেখানে পাহাড়সম আক্ষেপ আছে কিন্তু শোনার কেউ নেই। সেই বাংলাদেশটাই বারবার আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়।
মুক্তিশিখা সেই আলোর বাহিরে থাকা ভুলে যাওয়া বাংলাদেশের কণ্ঠ হতে চায়।
খবরের ভিড়ে আজ হারিয়ে যাওয়া মানুষের জীবনসংগ্রামের সত্য গল্প, শিরোনামের চাপে চাপা পড়ে যাচ্ছে কৃষকের ঘাম, শ্রমিকের ক্ষুধা, জেলের শূন্য জাল, আদিবাসীর অস্তিত্বের লড়াই, নারীর নীরব কান্না আর শিশুর অদৃশ্য শৈশব। রাষ্ট্রযন্ত্রের কাগজে যেসব আর্তনাদ স্থান পায় না, সভ্যতার দরজায় যেগুলো কখনো পৌঁছায় না—সেই সব বলা ও না-বলা কথার ঠিকানাই হতে চায় মুক্তিশিখা।
আমরা বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের নাম নয়—এটি একটি দায়। সত্য বলার দায়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়, ক্ষমতার প্রশ্ন তোলার দায়। মুক্তিশিখা কোনো দল, গোষ্ঠী বা কর্পোরেট স্বার্থের মুখপাত্র হবে না। আমরা দাঁড়াবো মানুষের পাশে—যেখানে প্রশ্ন আছে, সেখানে প্রশ্ন করবো; যেখানে অন্যায় আছে, সেখানে প্রতিবাদ লিখবো।
নদীর আর্তনাদ, মেহনতী মানুষের জীবন, আদিবাসী বাস্তবতা, প্রান্তিক জনপদের গল্প, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য—সব মিলিয়ে মুক্তিশিখা হতে চায় এক বিকল্প সংবাদভাষ্য। যেখানে সংবাদ হবে মানবিক, ভাষা হবে দায়বদ্ধ আর দৃষ্টি হবে নিচের দিকে—ক্ষমতার দিকে নয়, মানুষের দিকে।
এই যাত্রা সহজ নয়। চাপ আসবে, প্রশ্ন আসবে, হয়তো নীরব করবার চেষ্টাও হবে। তবু আমরা বিশ্বাস করি—সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহসই সাংবাদিকতার মূল শক্তি।
মুক্তিশিখা কোনো একদিনের কাগজ নয়, কোনো মৌসুমি উদ্যোগও নয়। এটি একটি দীর্ঘ পথচলার অঙ্গীকার—মানুষের জন্য, মানুষের সঙ্গে।
ঊষার দুয়ারে আমরা আঘাত হানছি—আলো জ্বালানোর প্রত্যয়ে।
— সম্পাদক
মুক্তিশিখা





